জিবনের প্রতিটি মুহূর্তই সংগ্রাম

Ezazul Ezazul

Haque

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০১৯
জিবনের প্রতিটি মুহূর্তই সংগ্রাম

দৈনিকসত্যপ্রকাশ ডেস্কঃ 

” বেঁচে থাকার সংগ্রামে প্রতিক্ষণ মৃত্যুকে আলিঙ্গন ”
———————————————————————-

প্রত্যেক মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিতে হবে, এটা ছহি হাদিসে বর্ণিত। আমরা মুসলমান হিসেবে এটা বিশ্বাস করেই আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছি। কখন কার কি ভাবে মৃত্যুর ডাক আসবে স্বয়ং আল্লাহ্ ছাড়া আর কেহ বলতে পারবে না ।

কিছু কিছু অনাকাঙিক্ষত মৃত্যুর সংবাদ আমাদেরকে অতিমাত্রায় কষ্ট দেয়, ব্যতীত করে, নীরবে কাঁধায়।
প্রসঙ্গ, আমাদের সোঁনার বাংলার মানুষ কি ভাবে প্রতিক্ষণ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে প্রতিদিন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখে দেখে জীবনের পূর্ণতা/অপূর্ণতা নিয়ে এই অনিন্দ্যসুন্দর পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে।

আমাদের দেশে মানুষের অবজ্ঞা আর অবহেলার কারণে ঘটে যাওয়া অনেক দুর্ঘটনার খবর সংবাদ পত্রের শিরোনাম আর টিভি টকশোতে প্রাধান্য পায়, অপ্রত্যাশিত সেই সকল দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অকালেই ঝরে যায় শত শত প্রাণ, বেঁচে যাওয়া কিছু মানুষ জীবনের অবশিষ্ট সময় পঙ্গুত্ব নিয়ে মানুষের মাঝে করুণার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকতে হয়।
উন্নত বিশ্বে আসার সুযোগ না হলে বুঝতে পারতাম না আমাদের দেশের মানুষ জীবনে বেঁচে থাকার সংগ্রামে প্রতিদিন বুঝে অথবা না বুঝে প্রতি মুহূর্তে কি ভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিরাপদ সড়ক নেই, তাছাড়া কর্মস্থলে আসা যাওয়ার পথে বখাটে মানুষের অসংলগ্ন আচরণে অতিষ্ঠ, নিম্ন বিত্ত মানুষের ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধ, সম্পদ শালি মানুষ তার নিজের জীবন রক্ষা করবে, না, কি, তার কষ্টের অর্জিত সম্পদ রক্ষা করবে এই অস্থিরতা প্রতিক্ষণ, নিরাপদ স্হান ভেবে আইনের ধারস্ত হলে কৌশলে তারাও সুবিধা নিতে একটু কাল বিলম্ব করে নাই, দিনের সকল কর্ম ব্যস্ততা শেষে নিরাপদে নিজ গৃহে এসে যখন দিনের সকল ক্লান্তি শেষে শান্তিতে একটু বিশ্রাম নিতে মন চায়, সেখানেও নিরাপদে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ চোখ খান খোলা রেখে নিদ্রা পথের যাত্রী হতে হয়, বহুতলা বিল্ডিংয়ে যে কোন সময় মানুষের আর্তনাদের চিৎকার শুনবেন বাঁচাও, বাঁচতে চাই, কোন কিছু উপলব্ধি করার আগেই দেখবেন চোখের পলকে বিল্ডিংটি ধশেপড়ে গেছে অথবা বিল্ডিংয়ে আগুন বিষ্ফুরিত হয়ে চোখের সামনে আগুনের লেলিহানে পুড়ে যাচ্ছে শত শত তরতাজা প্রাণ, অনেকে আগুনের লেলিহান থেকে বাচার জন্য আর্তনাদ করছে।
ডিজিটাল যুগের অতি উৎসাহী মানুষেরা সেল্ফি তুলতে ব্যস্ত, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হতে থাকে কতজন আশংকা জনক, আর কতজন আশংকা মুক্ত, পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কখনো কখনো সরকার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়, জানিনা আমাদের দেশে মানুষের জীবনের মূল্য কি ভাবে নির্ধারণ করা হয়। তাছাড়া দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

নিয়ম না মেনে যে ভাবে সমাজ ব্যবস্থা চলছে, তেমনি
নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে আমাদের দেশের শহর গুলি। শহরে বসবাস অতিরিক্ত ঝুঁকি পূর্ণ হওয়ার একমাত্র কারণ আমাদের দেশে সুষ্ঠ রাজনৈতির চর্চার অভাব। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের কিছু কিছু নেতা নিজেদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ভাবে ক্ষমতায় অপব্যবহার করে তীলে তীলে প্রতিটি শহরকে বিপদ জনক করে তুলেছেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সকলের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, আপনাদের নিজের সর্বোচ্চ ভালো কাজগুলি দেশের জন্য করেন। এদেশ আপনাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে।

লেখক নুর লোদী