অপরাজনীতির রোষানলে ছাত্র জীবন ধংশ

Ezazul Ezazul

Haque

প্রকাশিত: ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০২:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৯
অপরাজনীতির রোষানলে ছাত্র জীবন ধংশ

নিউজ ডেস্কঃ গত ১৮ই মার্চ সারা দেশে বেশ কয়েকটি জেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পূর্ণ হলো। নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় সারা দেশে অনেক গুলি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল, এখনো অনেক নেতা কর্মী আশংকা জনক অবস্থায় রয়েছেন। আমাদের বিয়ানী বাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনোত্তর কোন সহিংসতার খবর শুনিনি, সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখলাম। এই ভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চলমান থাকবে এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। যাইহোক মূল প্রসঙ্গে চলে আসি, তৃতীয় বিশ্বে আমাদের মতো গরীবে দেশে পরিবারের একটি ছেলে সন্তানকে নিয়ে আনন্দ আর স্বপ্নের শেষ নেই । ছেলেটি পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে পিতা মাতা তাদের কল্পনার জগতে রঙিন স্বপ্ন দেখতে থাকেন। কিন্তু সন্তানকে নিয়ে কতো জন পিতা মাতা তাদের স্বপ্নের জায়গা বাস্তবে দেখতে সক্ষম হয়েছেন। ৩/৪ বছর বয়সে ছেলেকে মক্তবে পাঠান ইসলামী শিক্ষা অর্জনের জন্য, ৫ বছর বয়সে কেহ মাদ্রাসায় ভর্তি করেন, ছেলে অনেক বড় আলিম হবে, ইসলামীক চিন্তাবিদ হবে । আবার অনেকে স্কুলে ভর্তি করেন, ছেলে বড় ডাক্তার হবে, বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। ছেলেটি যখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে, তখন পিতা মাতার মুখে গোলাপের মতো হাসি ফোঁটে। বুকে বড় আশা নিয়ে ছেলেকে মহা বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। ছেলেটি যখন মহাবিদ্যালয়ে পদার্পণ করে, সে দেখতে পায় উন্মুক্ত সব কিছু, খোলা আকাশের নীচে পাখি যে ভাবে ডানা মেলে ঘুরে, তারও মন চায় পাখির মতো ডানা মেলে ঘুরতে। আমাদের দেশে মহাবিদ্যালয় গুলিতে অতিমাত্রায় রাজনীতির চর্চা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড় ভাইয়েরা নিজের অবস্থান কে শক্তিশালী করতে সকল নবীন ছাত্রীদেরকে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযোদ্ধ সহ বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন অবদানের কথা বলে নবীনদের মনে দেশ প্রেমের বিপ্লবী চেতনাকে জাগ্রত করে তুলেন , তখন নবীনেরা নিজের পছন্দ মতো একটি দলের আদর্শকে বুকে ধারণ আর মনে লালন করতে থাকে, একসময় সেই দলের কর্মী হিসাবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। ছাত্রনেতাদের নির্দেশে, সহকর্মী ও সিনিয়র ভাইদের সাথে সেচ্ছায় অথবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ গ্রহণে সক্রিয় হয়ে উঠে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছেলের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া খবর যখন পিতা মাতার কান পর্যন্ত চলে যায় , শুরু হয় তাদের হতাশা ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে, সাথে সাথে তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে দিকে দাবিত হতে থাকে। এক সময় জুনিয়র ভাইদের সম্মান, সহকর্মীদের ভালোভাষা , সিনিয়রদের স্নেহমমতা আর এলাকা বাসির গর্ববোধ রাজনীতিতে আরো সক্রিয় করে তুলে। মিছিল, মিটিং আর কর্মী সভার কর্মসূচি নিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকতে হয়। চোখের পলকে দুই বছর চলে যায়, সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, প্রস্তুতি নেই, প্রবেশিকা হলে গিয়ে খাতায় কি লিখবে সে নিজেও জানেনা । কিছু দিন পরে যখন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, ফলাফল দেখে নিজেও হতাশ, মা বাবাও হতাশ , কারণ আশানুরূপ ফলাফল হয়নি। ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া যাবে না, ছেলেকে নিয়ে মা বাবার সেই স্বপ্ন , স্বপ্নইথেকে যায়। এ ভাবে বেশির ভাগ ভালো ও মেধাবী ছাত্র তাদের জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি , বিশেষ করে মফস্বলে। উদাহরণ হিসেবে যদি বিয়ানী বাজার সরকারি কলেজের কথাই বলি , দেখা যায়, এস এস সি পরীক্ষায় অনেক ছাত্র ভালো নাম্বারে পাশ করে বিয়ানী বাজার সরকারি কলেজে ভর্তি হলো , কিন্তু কতজন ছাত্র এইচ এস সি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছেন, আর কতজন ছাত্র সফলতার সাথে বি এ পাশ করেছেন। আমার বিবেচনায় এই অসুস্থ রাজনীতির চর্চাকে প্রাধান্য দিয়ে লেখাপড়ার প্রতি মনোনিবেশ না করে সাময়িক সম্মান/আনন্দকে উপভোগ করে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চিত হতাশার মধ্যে বছরের পর বছর চলে যায়। সূর্য উদয় আর সূর্য অস্ত যাওয়া দৃশ্য দেখতে দেখতে জীবন ও যৌবনের বড় একটি সময় নদী ভাঙ্গনের মতো বিলীন হয়ে যায়। দেখা যায় একযোগে ৫/১০ হয়তো ভালো লেখা পড়া করে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। হাতে গুণা কয়েক জন রাজনৈতিক ভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। অসংখ্য ছাত্র না পারলো সফলতার সাথে লেখা পড়া শেষ করতে, না রাজনৈতিক ভাবে নিজেকে একজন সফল সমাজকর্মী ভাবতে, এখন নিজেকে রাজনৈতিক দলের একজন বেওয়ারিশ কর্মী ভাবে। তাই এই বেমানান শব্দ উচ্চারণ থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে আস্তা ও বিশ্বাসী হয়ে উঠতে, একান্ত আনুগত্য হয়ে নিবেদিত কর্মী প্রমাণ করতে করতে জীবন থেকে আরো কিছু মূল্যবান সময় ঝরে পড়ে। কখনো কখনো ক্ষমতা দাপট দেখাতে গিয়ে অকালে তরতাজা প্রাণ ঝরে পড়ে। আমাদের বিয়ানী বাজার সরকারি কলেজে এ রকম দৃষ্টান্ত রয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল সময়ে ক্ষণিকের জন্য সোস্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ, শোকবার্তা, সমবেদনার আর ফুল জড়ি পড়ে। কিছু দিন স্বজনেরা মনে রাখেন, সহকর্মীরা রাজনীতির ফায়দা হাসিল করার জন্য মানব বন্ধন, জনসভা , সেমিনারের মাধ্যমে সরব থাকেন। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে মনে রাখার সময় টুকু বা কোথায়। কিন্তু জন্ম দাতা পিতা মাতা সন্তানকে নিয়ে বুক ভরা আশায় বসেছিলেন তাদের ছেলে একদিন বড় হয়ে গৌরবের সাথে সুনাম অর্জন করে সু-প্রতিষ্ঠিত হবে, নিজেকেও আলোকিত করবে, সমাজকেও আলোকিত করবে, তা কি আর হলো, স্বার্থেনীশি মহলের অপরাজনীতির চর্চায় মা বাবার হারায় তার বুকের মানিককে, মা, বাবা যতদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন, ততদিন সন্তান হারানো কষ্ট নিয়েই বেঁচে থাকবেন। রাজনীতিকে মানব সেবার উত্তর মাধ্যমে মনে করে রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, দেশের কল্যাণে। সন্তানকে নিয়ে কোন মা, বাবাকে পুড়তে যেন না হয় অশান্তির দাবানলে।

“লেখক,নুর উদ্দিন লোদী।”